MD. Mofizul Islam
February 11, 2026
Updated: April 15, 2026
1 min read
২০২৬ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত: সম্ভাবনা ও বাস্তবতা
Editorial

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ এক অনন্য রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশ এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে। এই শূন্যতার সুযোগে রাজনৈতিক ময়দানে এখন মূল লড়াইটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে এসেছে ।

বিএনপির সম্ভাবনা অনেকটাই উজ্জ্বল। একাধিক জাতীয় জরিপ বলছে, দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে। ইএএসডির বৃহৎ নমুনার জরিপ অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ২০৮টি আসনে জয়লাভ করতে পারে, যেখানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ৪৬টি । নারী ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের ৮০ শতাংশ এখন বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী বলে জরিপে উঠে এসেছে । দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন শেষে তারেক রহমানের দেশে ফিরে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়াও দলটির জন্য বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে ।

তবে বিএনপির পথ মসৃণ নয়। দলটির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী সংকট। ৭৯টি আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বহিষ্কৃত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৪৬ জনই শক্তিশালী অবস্থানে আছেন। এই বিভক্তি বিএনপিকে ১৫ থেকে ৩০টি আসন হারাতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা । এছাড়া ৫ আগস্টের পর বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে ।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা ও নেতৃত্বের ফাঁসির পর পুনরুত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের প্রায় ১৫ শতাংশ এখন জামায়াতের দিকে ঝুঁকছেন । বিশেষ করে খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে জামায়াত জোটের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়েছে । তরুণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের বিজয় এবং মোট ভোটারের ৪৪ শতাংশ জেন-জি ভোটারদের মধ্যে ৩৭.৪ শতাংশের পছন্দ জামায়াত হওয়া এক বড় রাজনৈতিক বার্তা ।
<

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ এক অনন্য রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশ এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে। এই শূন্যতার সুযোগে রাজনৈতিক ময়দানে এখন মূল লড়াইটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে এসেছে ।

বিএনপির সম্ভাবনা অনেকটাই উজ্জ্বল। একাধিক জাতীয় জরিপ বলছে, দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে। ইএএসডির বৃহৎ নমুনার জরিপ অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ২০৮টি আসনে জয়লাভ করতে পারে, যেখানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ৪৬টি । নারী ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের ৮০ শতাংশ এখন বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী বলে জরিপে উঠে এসেছে । দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন শেষে তারেক রহমানের দেশে ফিরে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়াও দলটির জন্য বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে ।

তবে বিএনপির পথ মসৃণ নয়। দলটির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী সংকট। ৭৯টি আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বহিষ্কৃত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৪৬ জনই শক্তিশালী অবস্থানে আছেন। এই বিভক্তি বিএনপিকে ১৫ থেকে ৩০টি আসন হারাতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা । এছাড়া ৫ আগস্টের পর বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে ।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা ও নেতৃত্বের ফাঁসির পর পুনরুত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের প্রায় ১৫ শতাংশ এখন জামায়াতের দিকে ঝুঁকছেন । বিশেষ করে খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে জামায়াত জোটের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়েছে । তরুণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের বিজয় এবং মোট ভোটারের ৪৪ শতাংশ জেন-জি ভোটারদের মধ্যে ৩৭.৪ শতাংশের পছন্দ জামায়াত হওয়া এক বড় রাজনৈতিক বার্তা ।

📸 গ্যালারি

জামায়াত সুশৃঙ্খল সংগঠন ও নারী কর্মীদের সক্রিয়তার মাধ্যমে ‘ক্লিন ইমেজ’ তৈরি করেছে । দলটি ১১টি দল নিয়ে নির্বাচনী ঐক্য গঠন করেছে, যেখানে জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রয়েছে । তবে জামায়াতের বিরুদ্ধে নারী নেতৃত্ব ও আর্মিকে হুমকির অভিযোগ এবং অন্যান্য ইসলামী দলের সঙ্গে দূরত্ব তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ।

নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে পারে ভোটার উপস্থিতির হার। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইডিডি) পূর্বাভাস বলছে, ভোটার উপস্থিতি ৬৫-৬৮ শতাংশ হলে বিএনপি জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, আর তা কমে ৫৩-৫৮ শতাংশ হলে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হবে । ধীরগতির ভোটগ্রহণ ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি কমার শঙ্কা রয়েছে ।

বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে। তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জামায়াত হবে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, বিরোধী দল হিসেবে তারা দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে পারে । ২০০১-২০০৬ সালের অভিজ্ঞতা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হলেও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি না-ও ঘটতে পারে।

শেষ পর্যন্ত, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথেই এগিয়ে আছে। কিন্তু জামায়াতের অপ্রত্যাশিত উত্থান ও বিদ্রোহী প্রার্থীর ভূমিকা ফলাফলকে যেকোনো দিকে মোড় নিতে বাধ্য করতে পারে। নির্বাচনী ব্যবস্থার ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট কাঠামো সামান্য ভোটের ব্যবধানকেও আসনের বড় ব্যবধানে রূপান্তরিত করে, যা এই নির্বাচনকে করে তুলেছে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অনিশ্চিত ।

শেয়ার করুন:
MD. Mofizul Islam

MD. Mofizul Islam

Expert in asfd news with 1 articles published.

মন্তব্যসমূহ

এখনও কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

একটি মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় বিভাগসমূহ

সংযুক্ত থাকুন

জনপ্রিয় খবর

সক্রিয় ব্যবহারকারী জন